Breaking News

৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল

৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের আর্টিকেলে ৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।

৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ১। শশী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। তার মা শশীকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রাখলেন এবং তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও কক্ষের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করলেন। তিনি মনে করেন, রোগীর সুস্থতার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

ক. পথ্য কী?
খ. রোগীর শারীরিক যত্ন বলতে কী বোঝ?
গ. মা কীভাবে শশীর যত্ন নিবেন- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শশীর মায়ের ধারণার যথার্থতা যাচাই করো।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। অসুস্থ অবস্থায় রোগীর চাহিদা অনুসারে তাকে যে খাদ্য দেওয়া হয় তাকে পথ্য বলে।

খ। রোগীকে আরাম দেয়ার জন্য তার শারীরিক যত্নের প্রয়োজন। অসুস্থতার সময় শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণে রোগীর যত্নের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। রোগীর বয়স অনুযায়ী পথ্য নির্বাচন এবং পরিবেশনেও যত্নবান হতে হবে। রোগীর পোশাক যেন ঢিলেঢালা এবং আরামদায়ক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

গ। শশী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। যেকোনো রোগীর জন্য তার পরিচর্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত পরিচর্যার দ্বারা রোগী সহজেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। আবার পরিচর্যার অভাবে রোগীর অবস্থার অবনতিও ঘটতে পারে। সেজন্য পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তার পরিচর্যার ব্যাপারে সচেতন ও যত্নবান হতে হবে। শশীর মা তাকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রাখলেন এবং তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও কক্ষের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করলেন।

এ সময় তার শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক যত্নও নিতে হবে। কারণ শারীরিক যত্নের মতো মানসিক যত্নও রোগীকে দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে। শশীর মন ভালো রাখার জন্য তার সেবা-যত্নের ব্যাপারে বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে। তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তার প্রতি কখনো বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না। তার শখ অনুযায়ী বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় শশীকে সাহস যোগাতে হবে। এভাবে মা শশীর যত্ন নিবেন। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

আরও দেখুন  ৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় সৃজনশীল

ঘ। শশীর মায়ের ধারণা রোগীর শুশ্রূষার সাথে সাথে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা রোগীকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে পারে। তার এই ধারণার সাথে আমি একমত। রোগীর কক্ষের ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রথমেই এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার ব্যবহার্য সব কিছুই জীবাণুমুক্ত থাকা দরকার। পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে তার ঘর ও বাথরুম ফিনাইল বা ডেটল পানি দিয়ে প্রতিদিন মুছতে হবে। জানালা-দরজা মুছে পরিষ্কার হালকা পর্দা লাগাতে হবে। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

আলো- বাতাসপূর্ণ কক্ষে রোগীকে থাকতে দিতে হবে। রোগীর বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি, তোয়ালে প্রতিদিন ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে। মাঝে মাঝে রোগীর ব্যবহৃত লেপ, কাঁথা, তোষক কড়া রোদে দিতে হবে। এতে সেগুলো জীবাণুমুক্ত হবে। রোগীর মলমূত্র তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করতে হবে। রোগীর কক্ষে যেন মশামাছির উপদ্রব না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাই উপরিউক্ত নিয়ম-কানুনগুলো যথাযথভাবে মেনে চললে শশী তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।

প্রশ্ন ২। এশা জ্বরে আক্রান্ত। তাকে দক্ষিণের খোলামেলা ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর পর থার্মোমিটার দিয়ে তার মা দেহের তাপমাত্রা নির্ণয় করে তা রেকর্ড করে রাখেন। এশার পথ্য ও তার ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তার মা খুবই সচেতন।

ক. কোন রোগে প্রোটিনের পরিমাণ কমাতে হয়?
খ. জ্বর হলে রোগীকে কেমন পথ্য দিতে হয়?
গ. এশাকে দক্ষিণের খোলামেলা ঘরে থাকতে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রোগ নিরাময়ের সাথে এশার মানসিক যত্নের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। কিডনি রোগে প্রোটিনের পরিমাণ কমাতে হয়।

খ। সব রোগে একই রকম পথ্য দেওয়া যায় না। রোগ বিশেষে কোনো কোনো বিশেষ পুষ্টি উপাদান নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয়। তাই অসুস্থ অবস্থায় রোগীর চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে হয়। জ্বর হলে রোগীকে ক্যালরিবহুল সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

গ। এশা জ্বরে আক্রান্ত। মা তার পথ্য ও ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে খুবই সচেতন। তিনি এশাকে দক্ষিণের খোলা ঘরে থাকতে দিয়েছেন। কারণ এশার জন্য প্রয়োজন কোলাহলমুক্ত, আলো-বাতাসপূর্ণ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। রোগীর কক্ষ খোলামেলা ও ছিমছাম হলে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। খোলা জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকলে এশার মন ভালো থাকবে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীর জন্য মোটেই নিরাপদ নয়।

আরও দেখুন  ৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল

রোগীর কক্ষে যেন মশা-মাছির উপদ্রব না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। রোগীর কক্ষের পরিবেশ ভালো হলে সে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। তাই রোগীর কক্ষ আরামদায়ক ও দূষণমুক্ত হতে হবে। উপরিউক্ত বিষয় বিবেচনা করে, এশার মা তাকে দক্ষিণের খোলামেলা ঘরে থাকতে দেন। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

ঘ। শারীরিক ও মানসিক যত্ন এশাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে। এশার মন ভালো রাখার জন্য তার সেবা-যত্নের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না। তাকে ঘরে একা রাখা যাবে না। কথা বলার জন্য কাউকে তার পাশে। থাকতে হবে। তার মন ভালো রাখার জন্য বিনোদনের (যেমন- গান শোনা) ব্যবস্থা করতে হবে। খোলা জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দিলে তার মন প্রফুল্ল থাকবে। এ

শার মানসিক যত্নের ব্যাপারে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে, তাহলেই সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। তাই বলা যায়, রোগ নিরাময়ের সাথে এশার মানসিক যত্নের সম্পর্ক রয়েছে। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

প্রশ্ন ৩। রত্না বেশ কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছে। তার মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার তার মাকে দিনে কয়েকবার রত্নার গায়ের তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা জেনে একটি কাগজে লিখে রাখতে বলেন। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

ক. লবণ কম খেতে হয় কোন রোগে?
খ. শরীরের তাপমাত্রা রেকর্ড করে রাখতে হয় কেন?
গ. রত্নার মা, তাপমাত্রা রেকর্ড করার সময় কোন বিষয়গুলো লক্ষ রাখবেন ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রত্নার সুস্থতায় ডাক্তারের পরামর্শটি মূল্যায়ন করো।

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। লবণ কম খেতে হয় উচ্চ রক্তচাপ হলে।

খ। যে কোনো রোগে আক্রান্ত হলে দিনের বিভিন্ন সময় শরীরের তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়। তাপমাত্রা রেকর্ড করে রাখলে চিকিৎসকের পক্ষে রোগ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হয় । (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

আরও দেখুন  ৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় সৃজনশীল

গ। রত্না বেশ কিছুদিন যাবত জ্বরে ভুগছে। ডাক্তার তার মাকে তাপমাত্রা রেকর্ড করতে বলেন। তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মোমিটার বগলের নিচে বা মুখের ভিতর জিহ্বার নিচে রাখতে হয়। তাপমাত্রা মাপার সময় রত্নার মায়ের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে—

  • থার্মোমিটারের পারদ ৯৪ ডিগ্রিতে আনা।
  • সাধারণত বগলে বা মুখে থার্মোমিটার স্থাপন করা।
  • নির্দিষ্ট স্থানে থার্মোমিটার ২ মিনিট রেখে তাপমাত্রা জানা।
  • শুশ্রূষাকারীর মাধ্যমে রোগীর দেহের তাপ নেওয়া।
  • তাপ নেওয়ার পর দেহের তাপমাত্রা দৈনিক চার্টে লিখে রাখা।

ঘ। রত্নার বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর। ডাক্তার তার মাকে তার দেহের তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা জেনে একটি কাগজে লিখে রাখতে বলেন যা রোগ নির্ণয়ে এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে সহায়ক হবে। জ্বর বা কোনো রোগে আক্রান্ত হলে দিনের বিভিন্ন সময়ে দেহের তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়। তাপমাত্রার এই পরিবর্তনের হার বা মাত্রা যদি রেকর্ড রাখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পক্ষে রোগ নির্ণয় করে উপযুক্ত ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সহজ হয়। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী দিনে কয়েকবার এ তাপমাত্রা মাপা হয়। এর সাথে একই সময়ে নাড়ির গতি ও নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা জেনে লিখে রাখতে হয়। প্রতি মিনিটে যতবার ধমনী স্পন্দিত হয়, সেই সংখ্যাই নাড়ির গতির হার নির্দেশ করে। শ্বাস- প্রশ্বাসের গতি নির্ণয় করতে হলে সেকেন্ডের কাঁটাযুক্ত ঘড়ি দরকার।

বুক বা পেট প্রতি এক মিনিটে কতবার ওঠানামা করেছে তা গণনা করে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি নির্ণয় করা হয়। এগুলো সঠিকভাবে রেকর্ড করা থাকলে চিকিৎসক সঠিকভাবে রোগীর অবস্থা জানতে পারেন। ফলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি রোগের উপশম হয়। সুতরাং রত্নার সুস্থতায় ডাক্তারের পরামর্শটি যথার্থ। (৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়)

আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা বিষয়ক সকল ধরণের আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

শিক্ষা মেলা একটি শিক্ষা মূলক ওয়েবসাইট। এখানে নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সহ সকল শ্রেণির সাজেশন, প্রশ্নোত্তর ও আর্টিকেল শেয়ার করা হয়।

Check Also

৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম অধ্যায়

৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় সৃজনশীল

৮ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *