Breaking News

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৭ম অধ্যায় সৃজনশীল

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৭ম অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের আর্টিকেলে ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৭ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৭ম অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ১। লায়লার বয়স ১১ বছর। সে ঢাকায় শরীফ সাহেবের বাসায় কাজ করে। শরীফ সাহেবের ২ ছেলেমেয়েকে পড়তে দেখে তারও ভীষণ পড়তে ইচ্ছে করে। কিন্তু সারাদিন তাকে এত কাজ করতে হয় যে সে নিঃশ্বাস ফেলারও সময় পায় না। সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শরীফ সাহেবের বাসা থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। শরীফ সাহেব পুলিশে খবর দেয় এবং সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

ক. জাতীয় শিশুনীতিতে কারা শিশু হিসেবে গণ্য?
খ. শিশুশ্রম কাকে বলে? বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের লায়লার অধিকার সম্পর্কে বর্ণনা দাও।
ঘ. উদ্দীপকের লায়লার অপরাধের শাস্তি কী হওয়া উচিত? জাতিসংঘ শিশু সনদের ভিত্তিতে মতামত দাও।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। জাতীয় শিশুনীতিতে তারাই শিশু হিসেবে গণ্য যারা ১৪ বছরের কম বয়সী।

খ। শিশুরা বেঁচে থাকার প্রয়োজনে অর্থ উপার্জনের জন্য যে পরিশ্রম করে তাকেই শিশুশ্রম বলে। বাংলাদেশের শ্রম আইনে চৌদ্দ বছর পূর্ণ না হওয়া শিশু দ্বারা সম্পাদিত শ্রমকে শিশুশ্রম হিসেবে ধরা হয়। আমাদের দেশে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে না গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত হয়।

গ। উদ্দীপকের লায়লার শিশু হিসেবে অনেক অধিকার রয়েছে যা থেকে সে বঞ্চিত। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পাঠে আমরা জেনেছি যে, জাতিসংঘের শিশু সনদ অনুযায়ী সব শিশুর সমান অধিকার রয়েছে। শিশুদের মধ্যে লিঙ্গ, বর্ণ, জাতীয়তা, ধর্ম, শারীরিক সামর্থ্য এবং ধনী-গরিব কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

অর্থাৎ কোনো কারণেই শিশুর মধ্যে বৈষম্য থাকবে না। উদ্দীপকের লায়লার সাথে তাই শরীফ সাহেবের শিশু সন্তান দুটিরও কোনো পার্থক্য থাকা উচিত নয়। শিশু হিসেবে লায়লার তাদের সমান অধিকার রয়েছে। কেননা শিশুমাত্রই খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও শিক্ষার সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। লায়লার পড়াশুনা করার অনেক ইচ্ছা।

আরও দেখুন  ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১২ অধ্যায় সৃজনশীল

তার শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে শরীফ সাহেবের পরিবার ও সরকারের এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা ও বিনা খরচে শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। সব শিশুর জন্য মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আর এ শিক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে শরীফ সাহেবের পরিবারেরও এগিয়ে আসতে হবে। আর এগুলো সবই লায়লার অধিকার।

ঘ। উদ্দীপকের লায়লা ১১ বছর বয়সী একটি শিশু। সে শরীফ সাহেবের বাসায় গৃহকর্মী। শরীফ সাহেবের ২ সন্তানের পড়া দেখে তারও পড়তে ইচ্ছে করে। কিন্তু সে সুযোগটি তার নেই। তাই সে স্কুলে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে শরীফ সাহেবের বাসা থেকে পাঁচ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।

জাতিসংঘ শিশু সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের পূর্বে যদি শিশু কোনো অপরাধমূলক কাজ করে তবে তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। সুতরাং লায়লার অপরাধের জন্যও তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। কেননা সে ১১ বছরের একজন শিশু। তবে তাকে সংশোধনের জন্য কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো যেতে পারে।

আমরা জানি, সংশোধন কেন্দ্রে কিশোর- কিশোরীদের বন্ধুত্বপূর্ণ উপদেশ দ্বারা সংশোধনের মাধ্যমে অপরাধমূলক আচরণ প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষাও দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় কথা তাকে শিক্ষিত হতে দিতে হবে। শিক্ষার সুযোগ পেলে সে এ অপরাধটি করত না। সুতরাং তার শিক্ষার চাহিদা ও অধিকারটি মেটাতে হবে।

প্রশ্ন ২। বিয়ে বিচ্ছেদের পর দরিদ্র বাবা শিশু বিদ্যুৎকে জোর করে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সত্ত্বা বিদ্যুৎকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর বিদ্যুৎ গিয়ে ফুটপাতে আশ্রয় নেয়। সেখানে এক সঙ্গীর সাথে সে মাদক সেবন শুরু করে। বুঝিয়ে লেখ।

ক. জাতিসংঘে শিশু অধিকার সনদ কবে গৃহীত হয়?
খ. শিশুর নিরাপত্তাবোধের বিষয়টি কি?
গ. বিদ্যুতের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বিদ্যুতের জীবনে মাদক সেবনের কুফলগুলো বিশ্লেষণ কর।

আরও দেখুন  ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। জাতিসংঘে শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে গৃহীত হয়।

খ। শিশু জন্মগ্রহণের পর একান্ত অসহায় থাকে। খাদ্য, বস্ত্র, আরাম, গোসল, পোশাক ইত্যাদির চাহিদা মা অথবা অন্যান্য আপনজন দ্বারাই পূরণ করা হয়। সময়মতো এসব চাহিদা পূরণ হলে পরিবারের সদস্যদের প্রতি শিশুর আশ্ত বা বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এ বিশ্বাস থেকেই জন্মে শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ।

গ। শিশুরা সাধারণত অনুকরণপ্রিয়। কৌতূহল, বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনা, মানসিক চাপ, পারিবারিক হতাশা কিংবা পারিবারিক সুসম্পর্কের অভাব থেকেই শিশুদের মাদকদ্রব্য সেবনে অভ্যস্ত হতে দেখা যায়। স্কুল, কলেজ, বাড়ি, পার্ক, রেস্টুরেন্ট থেকে এর সূত্রপাত ঘটে। উদ্দীপকের বিদ্যুৎ মাদকদ্রব্য গ্রহণে অভ্যস্ত হয়েছিল পারিবারিক কলহের কারণে।

প্রথমত তার মা-বাবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং বাবা তাকে মার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এনে শিশু বিদ্যুতের মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এরপর সত্মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে করে নিরাশ্রয় হয়ে সে পথশিশু হয়ে গেল। পারিবারিক কলহ, হতাশা এবং সঞ্চত উৎসাহ তাকে এ পথে নিয়ে এসেছে। সেও তো একজন শিশু। কৌতূহল ও অনুকরণ তাই তার স্বভাবজাত।

এজন্যই সঙ্গীর দেখাদেখি মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। তবে বিদ্যুতের এ অবস্থার জন্য পারিবারিক কলহ সর্বাগ্রে দায়ী। কেননা বিদ্যুৎ কলহের শিকার হয়ে আশ্রয়চ্যুত না হলে সে রাস্তার মাদকাসক্ত সঙ্গীর দেখা পেত না। সুতরাং বিদ্যুতের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার মূল কারণ হলো পারিবারিক কলহ।

ঘ। বিদ্যুতের জীবনে মাদক সেবনের কুফল বা অপকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-

১. শারীরিক কুফল : মাদক সেবনে বিদ্যুতের শারীরিক ক্ষতি হবে। এতে তার হজমশক্তি নষ্ট হবে, খাবারে অরুচি হবে। দেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধবে। স্থায়ী কফ, কাশি এবং মারাত্মক যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

২. মানসিক কুফল : মাদক সেবনে বিদ্যুতের জ্ঞানবুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে লোপ পাবে। মানসিক ভারসাম্যহীনতায় বিদ্যুতের পাগল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আরও দেখুন  ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল

৩. অর্থনৈতিক কুফল : বিদ্যুতের জীবনে এটি অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

৪. সামাজিক কুফল : মাদক সেবন বিদ্যুৎকে ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি সামাজিক অপরাধের দিকে ধাবিত করতে পারে।

৫. ধর্মীয় কুফল : মাদক সেবন ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে করে ধর্মীয় আদেশ লঙ্ঘন করার শাস্তি বিদ্যুৎ পাবে।

আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা বিষয়ক সকল ধরণের আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

শিক্ষা মেলা একটি শিক্ষা মূলক ওয়েবসাইট। এখানে নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সহ সকল শ্রেণির সাজেশন, প্রশ্নোত্তর ও আর্টিকেল শেয়ার করা হয়।

Check Also

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১০ম অধ্যায়

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১০ম অধ্যায় সৃজনশীল

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১০ম অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *