Breaking News

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১১ অধ্যায় সৃজনশীল

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১১ অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের আর্টিকেলে ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১১ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১১ অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ১। রিয়ার বাবা ২ দিন আগে পাউরুটি কিনে এনেছেন। সেদিন খাওয়ার পর বাকিটা রয়ে গেছে। রিয়া ভাবল যে সে কলা দিয়ে পাউরুটি খাবে। কিন্তু পাউরুটি হাতে নিয়ে সে দেখল যে তার ওপর সবুজ বর্ণের আস্তরণ পড়েছে এবং কলাগুলো থেকে কালো বর্ণ ধারণ করেছে।

ক. খাদ্যবস্তুকে পচনশীলতার প্রকৃতি ও মাত্রানুযায়ী কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
খ. ইস্টের প্রভাবে কীভাবে খাদ্য নষ্ট হয়? ব্যাখ্যা কর।
গ. রিয়ার পাউরুটিতে কোন অণুজীব আক্রমণ করেছে/বাসা বেঁধেছে? তার বর্ণনা দাও।
ঘ. “রিয়ার কলা পেকে কালচে বর্ণ ধারণ করার জন্য দায়ী এনজাইম”– পাঠ্যবইয়ের আলোকে সত্যতা নিরূপণ করে এনজাইমের বিবরণ বিবৃত কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর

ক। খাদ্যবস্তুকে পচনশীলতার প্রকৃতি ও মাত্রানুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

খ। ইস্টের প্রভাবে শর্করা গেঁজে এলকোহল ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয় এবং খাদ্য নষ্ট হয়। ইস্ট হচ্ছে এক কোষ বিশিষ্ট অণুজীব যা পানি ও বাতাসের উপস্থিতিতে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্যকে নষ্ট করে।

গ। রিয়ার পাউরুটিতে ছত্রাক বাসা বেঁধেছে। ২ দিন আগের কেনা উদ্বৃত্ত পাউরুটি খেতে গিয়ে রিয়া দেখল যে তার ওপর সবুজ বর্ণের আস্তরণ পড়েছে। এ বর্ণনা থেকে আমরা বুঝতে পারি পাউরুটির ওপরে ছত্রাক বাসা বেঁধেছে। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পাঠে আমরা জানি যে, ছত্রাক একজাতীয় উদ্ভিদ।

উত্তাপ, আর্দ্রতা এবং বাতাসের উপস্থিতিতে কমলা, টমেটো, পনির, পাউরুটি, টক জাতীয় খাবারের ওপর ছত্রাক জন্মে। খাবারের ওপর ছত্রাক ধূসর সবুজ বর্ণের আস্তরণ তৈরি করে। রিয়ার পাউরুটিতে এ ছত্রাকই সবুজ বর্ণের আস্তরণ তৈরি করেছে। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে শস্য ও চীনা বাদামে এক ধরনের বিষাক্ত ছত্রাক জন্মায় যা খেলে দেহে বিষক্রিয়া দেখা দেয়। পানি ও আর্দ্রতায় ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শুষ্ক, ঠাণ্ডা ও আলোযুক্ত স্থানে ও উচ্চ তাপে ছত্রাক জন্মায় না এবং রোদের তাপে ছত্রাক ধ্বংস হয়।

আরও দেখুন  ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৪র্থ অধ্যায় সৃজনশীল

ঘ। “রিয়ার কলা পেকে কালচে বর্ণ ধারণ করার জন্য দায়ী এনজাইম”- কথাটি সত্য। রিয়া কলা খেতে গিয়ে দেখে যে কলা পেকে কালো বর্ণ ধারণ করেছে। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পাঠে আমরা জেনেছি যে, এনজাইমের প্রভাবে ফল অতিরিক্ত গেকে নরম ও বোঁটাচ্যুত হয়।

এভাবে থেতলানো ফল জীবাণুর আক্রমণে কালচে বর্ণ ধারণ করে। রিয়ার কলাও এ এনজাইমের কারণে অতিরিক্ত পেকে নরম হয়ে কালচে বর্ণ ধারণ করেছে। এনজাইম হল উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের উপাদান। উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষে এটা অণুঘটকের কাজ করে। এটা ফল ও সবজি পাকতে সাহায্য করে।

এনজাইমের কারণেই ফল ও সবজি বেশি পেকে গিয়ে কালচে বর্ণ ধারণ করে। বিকৃত গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নষ্ট হয়ে যায়। তাপ কম থাকলে এনজাইমের কাজ তত কম হয়। ৮০° সে. এর অধিক তাপে খাদ্যবস্তুকে উত্তপ্ত করলে এজনাইম নষ্ট হয়ে যায়। এনজাইমের বর্ণনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে, রিয়ার কলাটিতে এনজাইম অণুঘটকের কাজ করেছে এবং কলাকে অতিরিক্ত পাকিয়েছে। তাই অতিরিক্ত পেকে কলা কালচে বর্ণ ধারণ করেছে। সুতরাং প্রশ্নে উল্লিখিত কথাটি সত্য।

প্ৰশ্ন ২। রুমি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ে দেখল যে, যেকোনো জিনিস সংরক্ষণের মাধ্যমে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো রাখা যায়। অর্থেরও অপচয় কম হয়। তাই সে বুঝতে পারল যে, সঠিকভাবে সংরক্ষণই হলো একটি দ্রব্যের দীর্ঘস্থায়িত্বের চাবিকাঠি।

ক. চাল, ডাল কোন অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয়?
খ. দ্রুত পচনশীল খাদ্য সম্পর্কে কী জান?
গ. উদ্দীপকটি কোন বিষয়টিকে সমর্থন করছে? পাঠ্য বইয়ের আলোকে আলোচনা কর।
ঘ. উদ্দীপকটির মাধ্যমে কোন বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়? এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মতামত তুলে ধর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক। চাল, ডাল ছত্রাক নামক অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয়।

খ। কোনো কোনো খাদ্য অতি দ্রুত অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পচন ধরে নষ্ট হয়। এসব খাদ্যে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। সেজন্য যত্ন না নিলে খুব দ্রুত পচে যায়। যেমন- মাচ, মাংস, দুধ, টমেটো, শাক ইত্যাদি। দ্রুত পচনশীল খাদ্য ফুটিয়ে রেফ্রিজারেটরে রেখে বা বরফে জমিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়।

আরও দেখুন  ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল

গ। উদ্দীপকটি খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়টিকে সমর্থন করেছে। খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায় খাদ্য যাতে পচে নষ্ট হয়ে না যায় যথাযথ ব্যবস্থা অবলম্বন করে খাদ্যের গুণগত মান অনুসারে খাদ্যকে বিভিন্নভাবে মজুদ রাখা।

বিভিন্ন মৌসুমে উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল, শস্য যেমন- চাল, ডাল, গম, সরিষা ইত্যাদি চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত অংশ অবিকৃত অবস্থায় দীর্ঘদিন খাওয়ার উপযোগী রাখার জন্য বিজ্ঞানসম্মত বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

অর্থাৎ শাকসবজি, ফলমূল, শস্যদানা ইত্যাদি খাওয়ার বা বিক্রির জন্য সঞ্চয় করে রাখা যায়। ভবিষ্যতের জন্য খাদ্যসামগ্রীকে নষ্ট করা বা অপচয় করা থেকে রক্ষা করে রাখাই খাদ্য সংরক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ঘ। উদ্দীপকটির মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। খাদ্যকে নষ্ট ও অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক কারণে খাদ্যকে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন-

১. ঋতুকালীন সবজি ও ফল সংরক্ষণ করে অপচয় রোধ করার পাশাপাশি খাদ্য ঘাটতি মেটানো যায়।
২. সংরক্ষণের মাধ্যমে এক মৌসুমের ফসল অন্য মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করে খাদ্যের চাহিদা ও অভাব মেটানো যায়।
৩. দেশের সব অঞ্চলে সব ধরনের খাদ্যশস্য, সবজি, ফলমূল উৎপন্ন হয় না। যথাযথ উপায়ে শস্য ফলমূল, সবজি সংরক্ষণ করে সারাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব।
৪. সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর ধরে বিভিন্ন মৌসুমের শস্য, শাকসবজি, ফলমূল সহজলভ্য করা সম্ভব।
৫. মাছ, মাংস ফলমূল ইত্যাদি খাদ্য টিনে সংরক্ষণ করে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
৬. খাদ্য সংরক্ষণ করা হলে খরা, মহামারী বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে খাদ্যের অভাব, অপুষ্টি থেকে রক্ষা করা যায়।
৭. এছাড়া যুদ্ধ কিংবা অন্যকোনো কারণে অস্থিতিশীলতার সময় সৃষ্ট খাদ্য ঘাটতি, দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় খাদ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম।

আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা বিষয়ক সকল ধরণের আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

আরও দেখুন  ৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১৩ অধ্যায় সৃজনশীল

About মেরাজুল ইসলাম

শিক্ষা মেলা একটি শিক্ষা মূলক ওয়েবসাইট। এখানে নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সহ সকল শ্রেণির সাজেশন, প্রশ্নোত্তর ও আর্টিকেল শেয়ার করা হয়।

Check Also

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৯ম অধ্যায়

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৯ম অধ্যায় সৃজনশীল

৭ম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৯ম অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *