Breaking News

কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর: ১৯৭১ বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের ইতিহাসে, মননে ও চেতনায় এক অবিনাশী সাল। বাঙালি জাতির হাজার বছরের জীবনেতিহাসে এ সময় অত্যন্ত স্মরণীয়।

এ সময়ের গৌরবান্বিত ঘটনাকে চেতনায় লালন করে যারা লেখায় ধারণ করে আছেন, সেলিনা হোসেন তাঁদের অন্যতম। তিনি সমাজসচেতন। রাজনৈতিক অনুষঙ্গে উদ্বেল কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন যাটের দশকে এদেশবাসীর পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচন পেরিয়ে ‘৭১-এর মহান স্বাধীনতা আন্দোলন ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকে তাঁর লেখনীতে মূর্ত করে তুলেছেন।

সেই সঙ্গে উন্মোচন করেছেন ‘৭১-এর হানাদার-ঘাতক আর তাদের এদেশীয় সহযোগীদের মুখ ও মুখোশ। তাঁর ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে সহজ-সরল নিস্তরঙ্গ জীবনাচরণ এবং সুখ-সম্পদে ঐশ্বর্যশালী বাংলায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আগ্রাসন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার বীভৎস কাণ্ড।

একই সঙ্গে ফুটে উঠেছে দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত বাঙালির পরিবর্তনের দিনলিপি। সেই সঙ্গে এদেশীয় কিছু কুলাঙ্গার-রাজাকারের কর্মতৎপরতা এবং তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ সংগ্রাম। ক্ষতিকর পাখিদের থেকে খেতের ফসল রক্ষার্থে স্থাপিত কাকতাড়ুয়ার রূপকে আপাত অবহেলা-অবজ্ঞার পাত্র হয়ে চারপাশের সবকিছু পর্যবেক্ষণ এবং শত্রুকে প্রতিরোধের এক অনুপম আখ্যান সেলিনা হোসেনের এই ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাস।

কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১। বুধা শাহাবুদ্দিনকে স্যালুট করে কেন?
উত্তর : শাহাবুদ্দিন মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার হওয়ায় বুধা তাকে স্যালুট করে। ১৯৭১ সালে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য। প্রাণপণ লড়াই করে। তাদের সম্মিলিত চেষ্টাতেই দেশ স্বাধীন হয়। ঢাকার আর্ট কলেজের ছাত্র শাহাবুদ্দিন দেশ ও দেশের প্রতি ভালোবাসায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যোগ্যতাবলে তিনি মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার হন। বুধা দেশপ্রেমিক সাহসীদের শ্রদ্ধা করে। তাই সে শাহাবুদ্দিনকে স্যালুট করে।

প্রশ্ন ২। বুধার কাছে দিন-রাত সবই সমান কেন?
উত্তর : কেউ না থাকায় বুধা নিজের ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াতে পারে, যখন যা জোটে তা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে, যখন যেখানে খুশি রাত কাটায়। কোনোকিছুর পিছুটান নেই বলে বুধার কাছে দিন-রাত সবই সমান। মা-বাবা, ভাই-বোনদের হারিয়ে বুধা একা হয়ে যায়। তার খোঁজখবর নেওয়ারও কেউ নেই। দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধার দুটোই ওর কাছে সমান। কারণ দিনের বেলা যেমন ও খোলা আকাশের নিচে কাটায়, মাঠে-ঘাটে কোথাও যাওয়ার নিষেধ নেই তেমনই রাত হলেও ওর ঘুমানোর জায়গার অভাব নেই। এ রকম স্বাধীন জীবনে অভ্যস্ত হওয়ায় বুধার কাছে দিন-রাত সবই সমান। কারণ সে দিন-রাতের পার্থক্য না করে যেখানে সেখানে ঘুমাতে পারে। দোকানের বারান্দায়, হাটের চালায়, ঘাটের নৌকায়, গৃহস্থের উঠোনের খড়ের গাদায় সে ঘুমাতে পারে, তার কোনো অসুবিধা হয় না। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ৩। বুধা অনেক রকম মানুষ হতে চায় কেন?
উত্তর : নিজের মধ্যে নিজেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখার অনুভূতি অনুভব করতে পারে বলেই বুধা অনেক রকম মানুষ হতে চায়। পিতা-মাতা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে বুধা ছন্নছাড়া জীবনযাপন করতে থাকে। তবে সে উপকার ছাড়া কারও কোনো অপকার করে না। সে সবাইকে ভালোবাসে। এ কারণে গ্রামের সবাই তাকেও ভালোবাসে। বুধা সবার কাজ করে দেয়। তাই খুশি হয়ে গ্রামের সবাই তাকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকে। এতে সে বিরক্ত না হয়ে খুশি হয়। নিজেকে তার ভিন্ন ভিন্ন মানুষ বলে মনে হয়। এজন্য সে চায় তাকে সবাই বিভিন্ন নামে ডাকুক, যাতে সে নিজের মধ্যে অনেক রকম মানুষ হওয়ার অনুভূতি লাভ করতে পারে।

প্রশ্ন ৪। ‘লোহার টুপি ওদের মগজ খেয়েছে’—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : লোহার টুপি ওদের মগজ খেয়েছে।’- উক্তিটিতে লেখিকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লোহার টুপি পরে বর্বর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে কিশোর বুধার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষকে নির্বিচারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তাদের মাথায় থাকত লোহার টুপি । মানুষ হত্যা, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হীন চিন্তাই যেন তাদের মাথায় ছিল। কোনো মানবিক বোধ ছিল না। তাদের হীন চিন্তা ও বর্বরতার ক্ষেত্রে তাদের মাথা নষ্টের পেছনে ঐ লোহার টুপি অনেকাংশে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে বুধার মনে হয়েছে।

প্রশ্ন ৫। বুধা চাচির প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে কেন?
উত্তর : বুধা চাচির প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে তার মুখে মুক্তির কথা শুনে। কল্পনার পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় ভর করে বুধার দিন ভালোই কাটে। বুধা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে চায়। সে নিজে কামাই করতে চায়। এটা শুনে তার চাচি খুব খুশি হয়। চাচির মুখে মুক্তির কথা শুনে বুধার খুব ভালো লাগে। সে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। স্বাধীন মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আর এ কারণেই বুধা চাচির প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ৬। আলি কেন বলেছিল, “তোকে দেখেই বুঝতে পারছি দেশটা স্বাধীন হবে।”
উত্তর : দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য বুধার আগ্রহ ও সাহসিকতা দেখে আলি প্রশ্নোত্ত কথাটি বলেছিল। বুধা মুক্তিযোদ্ধা আলির কাছ থেকে এক শিশি কেরেসিন তেল চেয়ে নিয়ে এসে রাজাকার আহাদ মুন্সির বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার সাহস ও কর্মদক্ষতায় আলি ও মিঠু মুগ্ধ হয়। তারা বুধাকে সাথে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়। কিশোর বুধাও তাদের বলে তাদের ফিরে আসার জন্য সে অপেক্ষা করবে। যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকবে। তার সেই কথা শুনে আলি বলে, শাবাশ, তোকে দেখেই বুঝতে পারছি দেশটা স্বাধীন হবে। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

আরও দেখুন  নবম-দশম গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ৭। মতিউর কেন বুধাকে কান ধরে টেনে তোলে?
উত্তর : মতিউর বুধাকে কান ধরে টেনে তুলেছিল তাদের বাড়িতে কে আগুন দিয়েছে তা জানার জন্য। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে বুধা এক অনাথ কিশোর। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বুধাদের গ্রামে ঢুকে ঘরবাড়ি বাজারের দোকানপাট আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তাদের এ কাজে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আহাদ মুন্সি প্রকাশ্যে সহযোগিতা করে। কিশোর বুধা এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা আলি ও মিঠুর কাছ থেকে কেরোসিন নিয়ে রাজাকার আহাদ মুন্সির বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। এ কারণে আহাদ মুন্সির বড় ছেলে বুধার কাছে আলির কথা জানতে চায় এবং বুধাকে কান ধরে টেনে তুলে শাসায় তাদের বাড়িতে কে আগুন দিয়েছে তা জানার জন্য। বুধা এর উত্তর না দিয়ে মতিউরের দিকে তাকিয়ে জিভ বের করে ডেংচি কাটে।

প্রশ্ন ৮। ছেলেটি চারদিকে খোলা চোখে তাকাতে পারে কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ছেলেটি চারদিকে খোলা চোখে তাকাতে পারে। কারণ কোনো ভয়েই তাকে চোখ বুজতে হয় না। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে বুধা এক অনাথ কিশোর। মহামারীতে বাবা- মা, ভাই-বোনদের হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। চাচার সংসারে সে অনাদরে, কষ্ট-যন্ত্রণা নিয়ে বেড়ে উঠেছে। একা একা থাকার কারণে কেউ ওকে ভূতের গল্পও শোনায়নি। কেউ কখনো জুজুর ভয়ও দেখায়নি। এ কারণে বুধা ভয়শূন্য হয়েই নিজের মতো বড় হয়েছে। ভয়ের সঙ্গে বুধার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। পৃথিবীর সমস্ত ভয় তার আড়ালেই থেকে যায়। তাই ও চারদিকে খোলা চোখে তাকাতে পারে। কোনো ভয়ই ওর চোখ বন্ধ করতে পারে না। আর এ কারণেই কোনো ভয়েই বুধা কাবু হয় না। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ৯। আমিও তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করব। কে কেন বলে এই কথা?
উত্তর : আমিও তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করব। এ কথা কুন্তি বলেছে বুধাকে। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে বুধা একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকারদের অমানবিক আচরণ তাকে প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। সে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় রাজাকারদের বাড়ি। সে দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিনের দলে যোগ দিয়ে গেরিলা যুদ্ধেও অংশ নেয়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের নির্দেশে বুধা মিলিটারি ক্যাম্পে যায়। তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। এসব কাজের জন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে কুন্তির সঙ্গে দেখা করতে পারে না। একদিন শাপলা তুলে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে কুন্তির সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয় বুধার। বহুদিন তাদের বাড়িতে না যাওয়ার অভিযোগ করলে বুধা তাকে বলে যে, তার অনেক কাজ, তাই সময় পায় না। বুধার এ কথার উত্তরে কুন্তি বলে, আমি জানি তোমার অনেক কাজ। আমিও তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করব।

প্রশ্ন ১০। ‘মরণের কথা ভাবলে যুদ্ধ করা যায় না’— কথাটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : “মরণের কথা মনে করলে যুদ্ধ করা যায় না” লাইনটি দ্বারা যুদ্ধে মানসিক দুর্বলতাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধ মানেই বাঁচা-মরার লড়াই। জিততে হলে বাঁচতে হবে, হেরে গেলে মারা যাবে। কিন্তু বাঁচা-মরা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত, যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্য যেকোনো সময় মরতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর কথা মনে করে যুদ্ধ করতে গেলে সৈন্য দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ মৃত্যু সবসময় মনোবলকে দুর্বল করে দেয়। তাই মৃত্যুর কথা মনে করে যুদ্ধ করা যায় না। আলোচ্য লাইন দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন ১১। ‘যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই ওর জন্যে রাস্তা খোলা’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : ‘যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই ওর জন্য রাস্তা খোলা’— কথাটি দ্বারা বুধার ব্যক্তিস্বাধীনতাকে বোঝানো হয়েছে। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘বুধা”। এক চাচি আর চাচাত ভাই-বোন ছাড়া তিন কুলে আপন বলতে কেউ নেই। হাটে-মাঠে ঘুরে বেড়ায়। ঘুরতে ঘুরতে যে কোথায় যায় সে হিসাব রাখে না। ওর কাছে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সব সমান। আলোচ্য কারণেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ১২। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসের সালাম চাচা মুখ থুবড়ে পড়ে গেল কেন?
উত্তর : ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে সালাম চাচা মুখ থুবড়ে পড়ে গেল, কারণ মিলিটারি তাকে গুলি করেছিল। ১৯৭১ সালে সারা দেশে যুদ্ধ শুরু হয়। পাকিস্তানি সেনারা এদেশের মানুষের ওপর অকথ্য নির্যাতন করতে থাকে। একদিন তারা বুধার গ্রামও আক্রমণ করে। গুলি ছুড়তে ছুড়তে গ্রামে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সেনারা বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্রামের মানুষ কেউ মরে আগুনে পুড়ে, কেউ মরে গুলিতে। সালাম চাচাও গুলির আঘাতে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। অর্থাৎ মারা যায়।

প্রশ্ন ১৩। “যুদ্ধের জন্য আমাদের কত কী সইতে হয়”– কেন বলা হয়েছে?
উত্তর : “যুদ্ধের জন্য আমাদের কত কী সইতে হয়”— কথাটি বলা হয়েছে এ কারণে যে, যুদ্ধের সময় চারপাশে ধ্বংস আর মৃত্যুর মিছিল নামে। যুদ্ধ মানেই ধ্বংস আর মৃত্যু। প্রিয়জনের মৃত্যু ও চারপাশের ধ্বংসলীলা মানুষকে শোকে বিহ্বল করে তোলে। কিন্তু যুদ্ধের সময় সেই ধ্বংস ও মৃত্যু যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয়। চারপাশের মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা মনকে কাতর করে তোলে, ভীত করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুদ্ধের সময় আমাদের এসব সহ্য করতে হয়। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

আরও দেখুন  নবম-দশম গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ১৪। দেশের মানুষ বিদেশিদের মতো আচরণ করছে কেন?
উত্তর : দেশের মানুষ বিদেশিদের মতো আচরণ করছে, কারণ তারা বিদেশিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। দেশের কিছু কুলাঙ্গার পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে যোগ দেয় ১৯৭১ সালে। তারা রাজাকার। তারা গাঁ থেকে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, মাছ, ডিম, দুধ পাকিস্তানি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের খবর পাকিস্তানি সেনাদের জানিয়ে দেয়। তাদের এ আচরণ দেখে বুধার কষ্ট হয়। বুধা ভাবে, পাকিস্তানি সেনারা তো বিদেশি, কিন্তু দেশের মানুষরা নিজেদের মানুষ হয়েও কেন বিদেশিদের মতো আচরণ করছে? কেন এদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করছে? (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

🔰🔰 আরও দেখুন: কাকতাড়ুয়া উপন্যাসে চিত্রিত সমাজচিত্র ও কাহিনি-বিশ্লেষণ

প্রশ্ন ১৫। ঘুমের ভেতরে স্বাধীনতার স্বপ্ন বুধাকে এক আশ্চর্য দেশে নিয়ে যায় কেন?
উত্তর : ঘুমের ভেতরে স্বাধীনতার স্বপ্ন বুধাকে এক আশ্চর্য দেশে নিয়ে যায় । কারণ দেশ স্বাধীন হলে বুধা ভাবে ফুলকলির আর দুঃখ থাকবে না । বুধা ফুলকলিকে পছন্দ করত। রাজাকার কমান্ডার ফুলকলিকে মারলে বুধা অনেক কষ্ট পেয়েছে। রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার, নির্যাতন আর হত্যাকাণ্ড দেখে বুধার মনে দেশকে স্বাধীন করার জোশ জেগে ওঠে। সে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে রাজাকাররা তাকে প্রশ্ন করলেও সঠিক কোনো তথ্য সে দেয় না।

কুদ্দুস রাজাকার তাকে তাড়া করলে সে কচুরিপানাভরা পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক ডুবে ওপাড়ে গিয়ে ওঠে। তাঁর মাথায় কচুরিপানা লেগে থাকে। এ অবস্থায় ফুলকলি তাকে দেখলে খুব হাসত বলে সে কল্পনা করে। ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের ভেতরে সে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। সেখানে সে আর ফুলকলি হাত ধরাধরি করে হাঁটে। তাদের চারদিকে ফুল-পাখিতে ভরা। হাজারো প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়। ও ধরতে পারে না। ফুলকলি বুধার কাছে এসে বলে, এসব প্রজাপতি তোর জন্য, তুই যে আমার জন্য একটা যুদ্ধ জিতেছিস। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ১৬। বুধার কান্না দেখে কুন্তি অবাক হয় কেন?
উত্তর : কুন্তি বুধার কান্না দেখে অবাক হয়, কারণ সে আগে কখনো বুধাকে কাঁদতে দেখেনি। বুধা কুন্তির চাচাত ভাই। কুন্তি বুধাকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে। সে বুধাকে সাহসী হিসেবেই জানে। সে জানে বুধা তার পরিবারের সবাইকে হারিয়েও কাঁদেনি। তাই হঠাৎ করে বুধা ডুকরে কেঁদে উঠলে কুন্তি অবাক হয়। ভাবে, আজ বুধার কী হয়েছে, ওকে তো আগে কখনো কাঁদতে দেখিনি। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ১৭। বুধার কাছে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সব সমান কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : বুধার কাছে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সব সমান। কারণ মা- বাবা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়ে সে একা স্বাধীন মানুষ, যেখানে খুশি যেতে পারে, যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসে এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার স্বাধীনতার স্বপ্ন ও দেশপ্রেম রূপায়িত হয়েছে। দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং সেনাদের প্রতি চরম ঘৃণা তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। দেশকে ভালোবাসে বলেই সে ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শৈশবে সে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছন্নছাড়া জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেছে। মাঠের মাঝখানে সে কাকতাড়ুয়া সেজে দাঁড়িয়ে থাকে। এটাকে সে এক ধরনের খেলা মনে করে। তার কাছে রাত-দিনের হিসাব নেই। তা সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় হিসেবেই চিহ্নিত। সে মনের আনন্দে দুই পায়ে পথের ধুলো মেখে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। বুধার কিসে হাসি, কিসে কান্না কেউ বুঝতে পারে না। এ বিষয়টি বোঝাতেই লেখিকা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

প্রশ্ন ১৮। ও পাথরের চোখ মেলে মৃত্যু দেখে— কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : এক রাতে বুধার পরিবারের সবাই মারা গেলে সে শোকে পাথর হয়ে যায়। সেই অবস্থায় পরিবারের সবাইকে মরতে দেখা প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। কলেরায় এক রাতে বুধার মা-বাবা ও চার ভাই-বোন মারা যায়। বুধার চোখের সামনে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সকালে মৃতদেহগুলোতে হাত দিয়ে বুধা অনুভব করে সব জমে শক্ত হয়ে গেছে। ও বুঝে যায়, জমে শক্ত হয়ে যাওয়া মানে মৃত্যু। বুধা অনুভব করে, সেও জমে শক্ত হতে শুরু করেছে। তা দেখে তার চোখও শক্ত হয়ে যায়। এ কথাটিই প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে বলা হয়েছে। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ১৯ বিদেশি মানুষ এবং নিজেদের মানুষের উপর বুধার ঘৃণা বাড়তে থাকে কেন?
উত্তর : স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষের ওপর বিদেশিদের আক্রমণ এবং সেই আক্রমণে নিজেদের কিছু মানুষের সহায়তা করতে দেখে বিদেশি মানুষ এবং নিজেদের মানুষের ওপর বুধার ঘৃণা বাড়তে থাকে । একদিন আচমকা জিপগাড়িতে চড়ে পাকিস্তানি সেনারা বুধাদের গায়ে আসে। ঝপঝপিয়ে নেমে চারদিকে হত্যাযজ্ঞ চালায়। নিরীহ সব মানুষকে কোনো কারণ ছাড়াই হত্যা করে। গ্রামের একমাত্র ব্যবসায়কেন্দ্র বাজারের সব দোকানে আগুন লাগায়। অথচ গ্রামের আহাদ মুন্সি, কুদ্দুস, মতিউরের মতো কিছু কুলাঙ্গার এই গণহত্যাকারী বিদেশি লোকদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। এত আগুন, এত লাশ আর নিজেদের কিছু লোকের এত ঘৃণ্য দালালি করতে দেখে বিদেশি মানুষ এবং নিজেদের দেশের এই হীন মানুষদের ওপর বুধার ক্ষোভ ও ঘৃণা বাড়তে থাকে।

আরও দেখুন  নবম-দশম গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ৪র্থ অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ২০। বুধার আনন্দ আর কান্না কেউ বুঝতে পারে না কেন?
উত্তর : বুধার দুর্বোধ্য আচরণের কারণে কেউ ওর আনন্দ আর কান্না বুঝতে পারে না। বাবা-মা, ভাই-বোনদের হারানোর পর বুধা কোনো শোক প্রকাশ করেনি। কারণ অধিক শোকে ও শক্ত হয়ে গেছে। ফলে তার স্বাভাবিক আচরণে এক ধরনের খাপছাড়া ভাব সৃষ্টি হয়েছে। বুধা কাকতাড়ুয়া সেজে দাঁড়িয়ে থাকে। গায়ে ধুলো মাখে। অকারণেই হাসে। ফলে ওর আচরণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকে। আর এ কারণেই বুধার আনন্দ আর কান্না মানুষ বুঝতে পারে না। @@@প্রশ্ন ৬০। “মানুষের বোকামির সীমা নেই”— বুধা কেন এরূপ ভাবে? উত্তর : ‘মানুষের বোকামির সীমা নেই” – বুধার এরূপ ভাবার কারণ হলো মানুষ বুধার মতো ভাবতে পারে না। বাবা-মায়ের স্নেহ-মমতা বঞ্চিত হয়েও বুধা জীবনে আনন্দ উপভোগ করে। যেখানে ইচ্ছা যায়। কারও কাছে জবাবদিহিতা করতে হয় না। রাতে যেখানে ইচ্ছা ঘুমায়। ইচ্ছেমতো খেলা করে, খায়। তাই খোলা এই প্রকৃতির বুককে বুধার কাছে সোনার ঘর মনে হয়। কিন্তু সবাই বুধার মতো বুঝতে পারে না। তাই বুধা ভাবে, মানুষের বোকামির সীমা নেই।

প্রশ্ন ২১। “তিনুর জন্য কি একটা গান গাইবে?”– কেন?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা ছোট ভাইয়ের জন্য বুধার অন্তরের তীব্র বেদনার ভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনু ছিল বুধার ছোট ভাই। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল দেড় বছর। বুধা ওকে অনেক ভালোবাসত। বুধাকে দেখলেই তিনু হাত বাড়িয়ে দিত কোলে চড়ার জন্য। বুধা তিনুকে বুকে করে গান গাইত। ঘুমপাড়ানির গান শুনে তিনু ঘুমাত। সদ্যমৃত তিনুর কথা মনে আসতেই বুধা গভীর রাতে গান গাইতে চেয়েছে। বস্তুত এর দ্বারা বুধার মনের গভীর দুঃখই প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্ন ২২। ‘কীভাবে বেঁচে গেলাম?’— বুধা কেন নিজেকে এরূপ প্রশ্ন করে?
উত্তর : বুধার নিজেকে এরূপ প্রশ্ন করার কারণ হলো- বেঁচে যাওয়ার ব্যাপারটায় সে খুবই অবাক। কলেরার মহামারীতে বুধা তার পরিবারের সবাইকে হারায়। সে সময় কলেরা দারুণ সংক্রামক রোগ ছিল। রোগীর কাছাকাছি গেলেই আক্রান্ত হতে হতো। এক রাতে বুধার বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই মারা যায়। কলেরার সেই মহামারীতে বুধার কিছুই হয়নি। তাই বেঁচে থাকাটা বুধার কাছে দারুণ আশ্চর্যের বিষয়। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ২৩। ‘কামাই’ শব্দটা শক্ত হয়ে থাকা মগজের গায়ে ঠোক্কর খায় কেন?
উত্তর : বুধা চাচির সংসারে কোনো রোজগার ছাড়াই খাওয়ার কারণে ‘কামাই’ শব্দটা শক্ত হয়ে থাকা মগজের গায়ে ঠোক্কর খায়। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দারুণ শোকগ্রস্ত বুধা চাচির সংসারে আশ্রয় নেয়। সেখানে খাবার ও আশ্রয় পায়। চাচির অভাবের সংসারে তাকে আহার দেওয়া কষ্টকর। তাই চাচি বুধাকে রোজগারের কথা বলে। তখন নিজের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ফলে বুধার মগজে ‘কামাই’ শব্দটা দারুণ আলোড়ন তোলে। বস্তুত এর দ্বারা বুধার আত্মনির্ভরশীলতার বোধ জাগে।

প্রশ্ন ২৪। চাচির বাড়িতে গেলে বুধার বুক কেন ভার হয়ে যেত?
উত্তর : চাচির বাড়িতে গেলে বুধার বুক ভার হয়ে যাওয়ার কারণ হলো— সেখান থেকে সে রোজগার না করার কারণেই বিতাড়িত হয়েছিল— সেই লজ্জা ও দুঃখবোধ । বুধা বাবা-মাকে হারিয়ে অসহায় অবস্থায় চাচির সংসারে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে তার কোনো রোজগার ছিল না। ফলে চাচির অভাবের সংসারে সে বোঝা হয়ে ওঠে। চাচি তাকে রোজগারের কথা বলে তার কাছ থেকে মুক্তি চায়। তখন সে চাচির আশ্রয় ছেড়ে, পথে পথে থাকতে শুরু করে। এ কারণেই মাঝে মাঝে সেই বাড়িতে গেলে, বুধার বুক ভার হয়ে যেত। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

প্রশ্ন ২৫। খুশিতে কুন্তির দুচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল কেন?
উত্তর : খুশিতে কুন্তির দুচোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠার কারণ হলো— বুধা তাকে বলেছে যে, একদিন সে তাদের বাড়িতে ভীষণ ভালোভাবে যাবে। চাচির কারণে বুধা কুন্তিদের বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনুযোগ ছিল চাচাত বোন কুন্তির। তাই কুন্তিকে প্রবোধ দিতে বুধা বলেছিল যে, সে একদিন ভীষণ ভালোভাবে তাদের বাড়িতে যাবে। এটা শুনে কুন্তি ভেবেছিল যে, বুধা বুঝি তাদের বাড়িতে আবার চলে আসবে। তাদের বাড়িতে বুধার আবার ফিরে আসার কথা ভেবে খুশিতে কুন্তির দুচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। (কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর)

আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা বিষয়ক সকল ধরণের আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

শিক্ষা মেলা একটি শিক্ষা মূলক ওয়েবসাইট। এখানে নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সহ সকল শ্রেণির সাজেশন, প্রশ্নোত্তর ও আর্টিকেল শেয়ার করা হয়।

Check Also

নবম-দশম গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় অধ্যায়

নবম-দশম গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় সৃজনশীল

নবম-দশম গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় সৃজনশীল: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *