Breaking News

এইচএসসি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র ২য় অধ্যায় সৃজনশীল

এইচএসসি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র ২য় অধ্যায়: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের আর্টিকেলে এইচএসসি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র ২য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।

এইচএসসি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র ২য় অধ্যায়

প্রশ্ন ১। রৌহা গ্রামের লোকেরা সিদ্ধান্ত নেন তারা টিনসেড স্কুলটি পাকা এবং দ্বিতলবিশিষ্ট করবেন। তারা এ লক্ষ্যে কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে আলোচনা করেন। তারা দুইজনকে অর্থ সংগ্রহের, দুইজনকে মালামাল ক্রয়ের, একজনকে রাজমিস্ত্রি ঠিক করার এবং একজনকে তদারকির দায়িত্ব দেন। এভাবে তারা একত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

ক. সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম পর্যায় কী?
খ. “নির্দেশনার মাধ্যমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব” – ব্যাখ্যা করো।
গ. রৌহা গ্রামের জনগণ স্কুল সংস্করণে গৃহ ব্যবস্থাপনার কোন ধাপের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রৌহা গ্রামের লোকদের ব্যবস্থাপনার আর কোন কোন ধাপ অনুসরণ করতে হবে বলে তুমি মনে করো? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম পর্যায় হলো সমস্যার স্বরূপ উপলব্ধি।

খ। সঠিক নির্দেশনা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে সহজ করে। সার্বক্ষণিক নির্দেশনার মধ্যে থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাদের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করে। এতে কাজে ভুল-ত্রুটির পরিমাণ হ্রাস পায়। কাজে কোনো ত্রুটি থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে। ফলে দ্রুত তা সংশোধন করা যায়। এভাবেই নির্দেশনার মাধ্যমে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

গ। রৌহা গ্রামের লোকেরা স্কুল সংস্করণে গৃহ ব্যবস্থাপনার সংগঠন ধাপের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছেন। সংগঠন হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যা একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু ব্যক্তির মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে, পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে এবং তাদের কার্যকলাপকে একই সূত্রে আবদ্ধ করে।

সংগঠন কাঠামো শক্তিশালী না হলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও উপকরণের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হয় না। রৌহা গ্রামের লোকেরা স্কুলটি দোতলা করার জন্য সংগঠন প্রক্রিয়ায় যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা হলো-

আরও দেখুন  সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১. তারা তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করেছেন।
২. লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী কী কাজ করতে হবে তারা সেগুলো নির্দিষ্ট করেছেন।
৩. কাজগুলো সঠিকভাবে নির্দিষ্ট করার পর কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী সেগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন।
৪. তারা কাজের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সঠিকভাবে বণ্টন করেছেন।
৫. তারা কাজ অনুযায়ী উপকরণ সংগ্রহ ও বণ্টন করেছেন।
৬. গ্রামের লোকেরা মানবীয় (জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য্য ইত্যাদি) ও বস্তুবাচক সম্পদ (অর্থ, প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী যেমন— ইট, কাঠ, সিমেন্ট, বালি ইত্যাদি) এবং কাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।

ঘ। রৌহা গ্রামের অধিবাসীদের সংগঠন ছাড়াও ব্যবস্থাপনার আরও কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে। ধাপগুলো হলো— নির্দেশনা, বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় সাধন, মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

নির্দেশনা হলো কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আদেশ-নির্দেশ ও পরামর্শ প্রদান এবং কাজ সম্পর্কে অবহিত করা। কাজ সম্পাদনকালে যদি যথার্থ নির্দেশনা না দেওয়া হয়, তবে লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হয়। তাই যুক্তিসঙ্গত নির্দেশনা দিয়ে রৌহা গ্রামে স্কুল সংস্করণ করা সম্ভব। পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুসারে কাজটিকে বাস্তবরূপ দেওয়াই হলো বাস্তবায়ন।

সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কাজ বাস্তবায়নের গুরুত্ব অনেক। কাজটি যখন বাস্তবায়ন করা হয়, তখনই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য স্তরগুলো প্রয়োগ করা যায় । গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী যখন কাজ বাস্তবায়ন হয়, তখন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে রৌহা গ্রামের অধিবাসীদের বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণ ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

যেকোনো দলগত কাজে সমন্বয়সাধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজের বিভিন্ন অংশকে ঐক্যবদ্ধ করা, জোরদার এবং শৃঙ্খলা বিধান করার জন্য সমন্বয়সাধন প্রয়োজন। এক্ষেত্রেও সমন্বয়সাধন ধাপটি অনুসরণ করতে হবে। মূল্যায়ন হচ্ছে, যে লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে তা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে এর বিচার-বিশ্লেষণ করা। মূল্যায়নের মাধ্যমেই কাজের সফলতা ও বিফলতা নিরূপণ করা যায়।

আরও দেখুন  লোক-লোকান্তর কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

ফলে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ত্রুটিমুক্ত ও ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই রৌহা গ্রামের লোকদের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন ধাপটি অনুসরণ করা প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত গ্রহণ মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সিদ্ধান্ত হলো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থায় কী করতে হবে বা হবে না, তা স্থির করা। তাই রৌহা গ্রামের জনগণকে কাজ করার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে রৌহা গ্রামের স্কুল সংস্করণ করা সহজ হবে।

প্রশ্ন ২। হাসিব সাহেব তার পরিবারের প্রতিটি বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। তিনি মনে করেন, পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার স্তরগুলো অনুসরণ করে তিনি সিদ্ধান্তে পৌছান।

ক. ল্যাটিন শব্দ Decido অর্থ কী?
খ. গ্রস ও ক্রান্ডলের প্রদানকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংজ্ঞা লেখো।
গ. হাসিব সাহেবের পরিবারের আলোকে তার বিবেচনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
ঘ. হাসিব সাহেব তার পরিবারে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন তার স্তরগুলো বিশ্লেষণ করো।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক। ল্যাটিন শব্দ Decido অর্থ স্থায়ী ইচ্ছা বা চূড়ান্ত ফলাফলে উপনীত হওয়া।

খ। মার্কিন গার্হস্থ্য অর্থনীতিবিদ ইরমা এইচ এস (Irma H. Gross) এবং এলিজাবেথ ওয়ালবার্ট ক্রান্ডল (Elizabeth Walbert Crandall) এর মতে, “সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলকথা হলো একাধিক কার্যক্রম থেকে একটি বিশেষ কার্যক্রম বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা।” অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত বলতে বোঝায় কিছু বিকল্প পন্থা থেকে একটিকে বাছাইকরণ বা একটি কাজের ধারা নির্বাচন।

গ। সিদ্ধান্ত হলো বিবেচনা করে বিকল্প বাছাই করা। হাসিব সাহেবের বিবেচনা তার পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। তাই তার পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম T সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেকোনো সমস্যা সমাধানের উত্তম পথ নির্দেশ করে। ফলে সর্বোত্তম সমাধান নিশ্চিত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্যার স্বরূপ উদঘাটন করতে হয়।

এজন্য সমস্যা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হয়। এতে মেধা, যুক্তি ও অনুসন্ধানী মনোভাব গড়ে ওঠে। সীমিত সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের ওপর পরিবারের সাফল্য নির্ভর করে। এছাড়া পরিবারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আরও দেখুন  সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ৪র্থ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিকল্প পন্থা নির্ধারণ করা থাকে বলে এটি বাস্তবায়নে অযথা সময় নষ্ট হয় না। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিবারকে নানা প্রতিকূলতা ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

ঘ। হাসিব সাহেব তার পরিবারে যে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করেন তা হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ । এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। এর পাঁচটি স্তর রয়েছে। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে পর্যায়ক্রমে এ স্তরগুলো অনুসরণ করতে হয়।

এ স্তরগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা না হলে কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সমস্যা সম্পর্কে উপলব্ধি করা এবং সমস্যাকে চিহ্নিত করা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম স্তর। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সমস্যাটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত হওয়া প্রয়োজন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের দ্বিতীয় ধাপ হলো সমস্যা সমাধানের বিকল্প পন্থা উদঘাটন। এ স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে সমস্যার সব সম্ভাব্য বিকল্প সম্পর্কে জানতে হবে।

এরপর বিকল্প সমস্যা সমাধান সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে। এ স্তরে বিকল্প পন্থাগুলো বিশদভাবে মূল্যায়ন করে এর সুবিধা-অসুবিধা ও ফলাফল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে দেখা হয়। সেজন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হয়। বিকল্প পন্থাগুলো থেকে একটি সমাধান বেছে নেওয়া হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের চতুর্থ স্তর। এ স্তরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এটি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ছাড়াও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর আয়, বয়স, কাঠামো, বর্ণ ইত্যাদির উপরও বিকল্প সমাধান গ্রহণ অনেকাংশে নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের শেষ ধাপ হলো গৃহীত সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্ব নেওয়া।

যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তার ফলাফল জেনে দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এ দায়িত্ব গ্রহণ না করলে পূর্ববর্তী সকল স্তরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।

আশাকরি আমাদের আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। শিক্ষা বিষয়ক সকল ধরণের আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

শিক্ষা মেলা একটি শিক্ষা মূলক ওয়েবসাইট। এখানে নিন্ম মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সহ সকল শ্রেণির সাজেশন, প্রশ্নোত্তর ও আর্টিকেল শেয়ার করা হয়।

Check Also

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র ৩য় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর: আপনি কি একাদশ শ্রেণির ছাত্র? সমাজবিজ্ঞান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *